গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ময়মনসিংহের গৌরীপুরের যমজ ভাই-বোন পেল ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি। এই যমজ ভাই- বোন হলো নওশাদ হক লাবিব ও মুনতাহার হক মাইশা। একই দিনে জন্ম নেয়া এই দুই ভাই বোন জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে। যমজ দুই ভাই-বোনের এমন সাফল্যে পরিবার, শিক্ষক ও স্বজনরা বেশ খুশি।
এই যমজ ভাই-বোনের বাবার বাড়ি পূর্বধলা উপজেলার লাউবাড়ি গ্রামে। নওশাদ হক লাবিব ও মুনতাহার হক মাইশা জন্মের ১৩ মাস বয়সেই তাদের বাবা মঞ্জুরুল হক মারা যান। এরপর মা নৌশিন দিহান লাভলী একাই সংসারের হাল টেনে দুই সন্তানকে মানুষ করেছেন।
জীবিকার তাগিদে মা লাভলী দুই সন্তান নিয়ে চলে আসেন পার্শ্ববর্তী গৌরীপুর উপজেলায়। সেখানে ভাড়া দোকানে লাবিব ফ্যাশন ও মাইশা লেডিস কর্ণার নামে কসমেটিকসের ব্যবসা শুরু করেন। ব্যবসার পাশাপাশি দুই সন্তান নিয়ে বাসা ভাড়া করে বসবাস শুরু করেন গৌরীপুর পৌর শহরের স্টেশন রোড মহল্লায়।
দুই ভাই-বোনের মধ্যে নওশাদ হক লাবিব গৌরীপুর পৌর শহরের নুরুল আমিন উচ্চ বিদ্যালয় ও মুনতাহার হক মাইশা গৌরীপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। দুজনেই এখন নবম শ্রেণিতে পড়েছেন। অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে ২০২৫ সালে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে এই যমজ ভাই-বোন ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছেন। গত বুধবার ফল প্রকাশের পর যমজ ভাই-বোনের এমন সাফল্য দেখে পরিবার, শিক্ষক ও স্বজনরা বেশ খুশি।
মেধাবী দুই যমজ শিক্ষার্থীরা মা নৌশিন দিহান লাভলী বলেন, লাবিব ও মাইশার ১৩ মাস বয়সেই তাদের বাবা মারা যান। এরপর সংসারের হাল ধরতে নিজেই ভাড়া দোকানে কসমেটিকস ব্যবসা শুরু করি। ব্যবসার আয়ে সংসার ও সন্তানদের পড়াশোনার খরচ চালিয়ে গেছি। দুজনেই জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়েছে এতে আমরা অনেক খুশি।
যমজ দুই ভাই-বোনের মধ্যে নওশাদ হক লাবিব পড়াশোনা করে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। মুনতাহার হক মাইশা হতে চায় ডাক্তার।